Showing posts with label Important Health Tips. Show all posts
Showing posts with label Important Health Tips. Show all posts

Monday, February 2, 2015

বুকে বসে যাওয়া কফ দ্রুত দূর করতে ঘরেই তৈরি করুন কার্যকরী একটি সিরাপ


না ঠাণ্ডা না গরম, ঋতু পরিবর্তনের এই বিরক্তিকর সময়ে নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা লেগেই রয়েছে। সব চাইতে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন কমবেশি সকলেই হয়ে থাকেন তা হচ্ছে সর্দি কাশি। এবং ঝামেলা অনেক বেশি হয় যখন এই সর্দি কাশি বুকে বসে যায়। নানা ধরণের ঔষধেও এই যন্ত্রণাদায়ক সর্দি-কফের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না।
প্রাচীনকালে মানুষজনের এইধরনের বুকে বসে যাওয়া সর্দি-কফের চিকিৎসায় ঘরোয়া প্রাকৃতিক পদ্ধতিই ব্যবহার হতো। এবং বেশ দ্রুতই মুক্তি পাওয়া যেতো এই সমস্যা থেকে। তাই আজকে জেনে নিন ঘরে তৈরি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কফ সিরাপ তৈরির পদ্ধতি। সব চাইতে ভালো বিষয় হছে, বাজারে যেসকল কফ সিরাপ পাওয়া যায় তা খেলে যে ঘুম ঘুম ভাব আসে এই প্রাকৃতিক কফ সিরাপে এই ধরণের সমস্যা একেবারেই হয় না। এবং বেশ দ্রুত আপনি মুক্তি পেয়ে যাবেন বুকে জমে থাকা সর্দি থেকে। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য এটি বেশ কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক ঔষধ।
উপকরণঃ
– ১ টেবিল চামচ যষ্টিমধু
– ১ টেবিল চামচ তিল
– ১ স্লাইস লেবু
– ২৫০ মিলি লিটার পানি
– ২৫০ গ্রাম ব্রাউন সুগার (হালকা ভেজে তৈরী করতে পারেন এটি অথবা ১ কাপ ম্যাপেল সিরাপ ব্যবহার করতে পারেন)
পদ্ধতিঃ
– পানি একটি প্যানে ঢেলে চুলায় গরম হতে দিন। এতে দিন ব্রাউন সুগার বা ম্যাপেল সিরাপ। পানির সাথে পুরোপুরি গলিয়ে মিশিয়ে নিন।
– এরপর চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে দিয়ে বাকি উপকরণ গুলো দিয়ে দিন। অল্প আঁচে ১৫ মিনিট চুলায় রেখে জ্বাল দিতে থাকুন মিশ্রণটিতে।
– ১৫ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে আলাদা করে নিন।
– প্রতিদিন ৩ বার ১ টেবিল চামচ করে এই সিরাপটি খান। যতোদিন পর্যন্ত বুকের সর্দি একেবারে দূর হয়ে যাচ্ছে এভাবে খেতে থাকুন। দেখবেন বেশ দ্রুতই সর্দি থেকে মুক্তি পাবেন।
– এই সিরাপটি ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করুন।
সূত্র: প্রিয় লাইফ

Monday, October 20, 2014

প্যারাসিটামল সম্পর্কে জরুরী ১০টি অজানা তথ্য জেনে নিন


ব্যথা জ্বর নিরাময়ে প্যারাসিটামলের মতো নিরাপদ ওষুধ খুব বেশি নেই বলেই এটি আমাদের
দেশে বহুল ব্যবহৃত । তাই আমরা কোন কারণে মাথা ব্যথা, জ্বর কিংবা শারীরিক কোন ব্যথা হলে 
প্যারাসিটামল সেবন করি 
কিন্তু এই ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন, কেবল টুপ করে ট্যাবলেট গিলে ফেললেই সমস্যার সমাধান হবে না 
বরং বাড়বে ! প্যারাসিটামল সম্পর্কে আমাদের জানার পরিধি আরও কিছুটা বাড়ালে সবার উপকার হবে
আসুন জেনে নিই প্যারাসিটামল সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য, যা জানা থাকা খুবই জরুরী

. ব্যবহারিক বিচারে বেদনানশক ওষুধ সাধারণভাবে দুই ভাগে বিভক্ত  নারকোটিক বেদনানাশক
ওষুধযেমন-মরফিন, প্যাথিডিন ইত্যাদি  এগুলো মাদকজাতীয় আসক্তি তৈরি করে জাতীয় 
ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষেধ  আরেকটি ভাগ হচ্ছে, -মাদক 
বেদনানাশকযেমন-প্যারাসিটামলঅ্যাসপিরিন ইত্যাদি এদের মধ্যে প্রদাহবিরোধী,
যেমন-আইবুপ্রোফেন ইত্যাদিও  ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয় 

. দৈহিক বা সোমাটিক ব্যথায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে -মাদক বেদনানাশক, বিশেষ করে প্যারাসিটামলই 
ব্যবহৃত হয় মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশির ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, ঋতুকষ্ট ইত্যাদিতে প্যারাসিটামল খুবই কার্যকর 

. জ্বর উপশমেও প্যারাসিটামল একটি ফলপ্রসূ ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই এটি 
বিক্রি হয় এবং যে-কেউ কিনতে পারে এবং ওভার কাউন্টার বা ওটিসি হিসেবে পরিচিত  কিন্তু তাই 
বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত 

. প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট একটি, কখনো প্রয়োজনে দুটি ২৪ ঘণ্টায় 
তিন-চারবার খাওয়াই নির্দিষ্ট ডোজ  কিন্তু ২৪ ঘণ্টায় চার গ্রাম বা ৪০০০ মিলিগ্রামের বেশি
খাওয়া যাবে না 

. শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ দিতে হবে চার গ্রাম হচ্ছে সর্বোচ্চ মাত্রা 

. ব্যথা বা জ্বরের জন্য তিন দিন পর্যন্ত প্যারাসিটামল খেতে পারেন এতে উপকার না পেলে 
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে 

. প্যারাসিটামলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত গুরুতর নয় দু-একটা ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজনীয় 
উপাদানগুলোর অভাব সৃষ্টি বা চামড়ায় ফুসকুড়ি দেখা গেছে 

. উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি প্যারাসিটামল গ্রহণ করা উচিত নয় বেশি গ্রহণ করলে কিডনি 
লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে 

. অনেকেই ২৪ ঘণ্টায় ১০-১২টি ৫০০ মিলিগ্রামের প্যারাসিটামল খেয়ে থাকে এটি মোটেও 
ঠিক নয়  মোট চার গ্রাম হচ্ছে ৫০০ মিলিগ্রামের আটটি ট্যাবলেট, এটি হচ্ছে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মাত্রা 

১০. লিভারের সমস্যা থাকলে আরও কম মাত্রা গ্রহণ করতে হবে 


                                                         সুত্রঃ ড্রাগস.কম

কানের রোগে করণীয়

ডা. সজল আশফাক : কানের রোগগুলোর মধ্যে কানপাকা রোগ অন্যতম। কানপাকা রোগ দুই ধরনের। একটি হচ্ছে নিরাপদ ধরনের, অন্যটি মারাত্মক ধরনের। নিরাপদ ধরনের কানপাকা রোগে কান থেকে কানের পর্দা ছিদ্র থাকে। কান দিয়ে পুঁজ পড়ে। কানেব্যথা হয়, কান চুলকায়, কানে কম শোনা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ওষুধ ব্যবহার করে ও উপদেশ মেনে চললে রোগ নিরাময় করা যায়।  তবে এতে কানের পর্দা জোড়া লাগে না। অপারেশন করে কানের পর্দা জোড়া লাগানো যায়।
মারাত্মক ধরনের কানপাকা রোগে কান দিয়ে সবসময় একটু করে কষের মত ঝরে। কানের এ কষ পচা-দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা এ দুর্গন্ধ থেকেই রোগটির ধরন বুঝতে পারেন। মারাত্মক ধরনের কানপাকা রোগে অপারেশনই হচ্ছে প্রকৃত 
চিকিৎসা। উভয় ধরনের কানপাকা রোগ জটিল হয়ে কানের পুঁজ মস্তিষ্কে পৌঁছে যেতে পারে। এ ধরনের জটিলতায় কানে অপারেশন লাগে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য এ অপারেশন করতে হয়। 
কানপাকারোগ নিয়ে কখনোই হেলা-ফেলা করা উচিত নয়।

মধ্যকর্ণে প্রদাহ : এ সমস্যা শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। তবে বড়দেরও হয়ে থাকে। সাধারণত ঊর্ধ্বশ্বাসনালির প্রদাহ, টনসিলে ইনফেকশন,  এডিনয়েড নামক গুচ্ছ লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি ইত্যাদি থেকে এ ইনফেকশন হয়ে থাকে। এ রোগে কানে বেশ ব্যথা হয়, 
কান বন্ধ মনে হয়। সঠিক সময়ে এ রোগের চিকিৎসা না করলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে রোগটি কানপাকা রোগে রূপ নিতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ও নাকের ড্রপসহ অন্যান্য ওষুধ হচ্ছে এ রোগের চিকিৎসা।

মধ্যকর্ণে পানির মতো তরল জমা  : এ রোগের কারণও উপসর্গ অনেকটা মধ্যকর্ণে প্রদাহের মতোই। তবে উপসর্গগুলোর তীব্রতা অনেক কম থাকে। সাধারণ ওষুধেই এ রোগ সারে। অনেক সময় ছোট অপারেশন করে মধ্যকর্ণে জমে থাকা পানি বের করে 
দিতে হয়।

কানে ফাঙ্গাস ও ক্ষত : কানের মধ্যে অনেক সময় ফাঙ্গাস এবং ক্ষত হয়। সাধারণত কান খোঁচানোর জন্য কানের মধ্যে ফাঙ্গাস হয়ে থাকে। কান পরিষ্কার করা কিংবা কান খোঁচানো অনেক সময় একই বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এসব কাজে ব্যবহার করা হয় কটনবাড থেকে মুরগির পালক, কলমের মুখ, চুলের ক্লিপ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এসব কানের রোগটির জন্য দায়ী। কানে ফাঙ্গাস হলে মূলত চুলকায়। সঙ্গে ইনফেকশন বেড়ে প্রদাহ হলে ব্যথা হয়, কষ ঝরে ও কান বন্ধ হয়ে থাকে। অনেক সময় 
কানের ভেতরে ক্ষত হয়ে ফাঙ্গাসের সঙ্গে কানের বাইরের পথটিতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। তবে
চিকিৎসায় পুরো সেরে যায়। তবে ওষুধের চিকিৎসা শুরুর আগে ইএনটি বিশেষজ্ঞ দিয়ে কান পরিষ্কার করিয়ে নিতে হবে।

কানে ওয়াক্স বা খোল : কানে ওয়াক্স বা খোল অতি পরিচিত সমস্যা। এ খোল অনেকেই পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। নিজে এটি পরিষ্কার করা ঠিক নয়। নিজে পরিষ্কার করতে গেলে জমে থাকা খোলের বেশিরভাগই ভেতরে চলে যায়। ফলে বিপত্তি আরও 
বাড়ে। কানে খোল আটকে গেলে কানে ব্যথা হয়, কানে কম শোনা যায়। ইএনটি স্পেশালিস্ট কান দেখে এটি পরিষ্কার করে দিতে পারেন। তাবে পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে খোল গলানোর ওষুধ রয়েছে। তাতেও কাজ না হলে কিংবা অবস্থা বেশি খারাপ হলে  
অজ্ঞান করে কান পরিষ্কার করে দিতে হয়। যাদের কানে খোল হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তারা নিয়মিত কানে ৪-৫ ফোঁটা 
করে অলিভ অয়েল দিতে পারেন।  

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, নাক কান গলা বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সূত্র: ইন্টারনেট

মানুষ তোতলায় কেন? এটা কি কোন রোগ? এ চিকিৎসা কি? বিস্তারিত জেনে নিন



      মানুষ তোতলায় কেন? এটা কি কোন রোগ? এ চিকিৎসা কি?
প্রথমেই আসি জনাব ‘আবদুল্লাহ সাঈদ খান’ এর কথায়। তাঁর মতে – ‘তোতলামি করাটা এক ধরনের রোগ। এই রোগের পিছনে অনেকগুলো কারণ চিন্তা করা হয়েছে। মানুষের কথা বলা নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্কের বেশ কয়েকটি অংশ দিয়ে। বিভিন্ন অংশে সমস্যা হলে বিভিন্ন ধরনের কথা বলা সংক্রান্ত রোগ হয়। তোতলামি বা স্টাটারিং-এর পিছনে ব্রেইনের কোন অংশ কাজ করছে সেটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কেউ বলছেন যারা তোতলায় তাদের ব্রেইনের সামনের নিচের দিকের অংশ, যেটাকে ব্রোকাস এরিয়া বলে এবং যেটা মানুষের কথা বলতে পারাকে প্রোগ্রাম করে, সেটাতে ফাংশন কম হয়। আবার কেউ বলছেন 'রাইট ফ্রণ্টাল অপারকুলাম'নামক একটা জায়গায় এবনরমাল একটিভিটি হয়। তবে মূলত দেখা গেছে কথা বলার সময় ব্রেইনের বিভিন্ন অংশগুলো যেই ক্রমে কাজ করে, তোতলামোর রোগীদের সেই ক্রমটা একটু ওলটপালট হয়ে যায়।

তোতলামি রোগটা শিশু থেকে বড় হওয়ার সময় হতে পারে। যেগুলোকে বলে ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার। আবার একদল বিজ্ঞানী তোতলামো রোগীদের মধ্যে তিনটে জিনকে এর সাথে সম্পর্কিত পেয়েছেন। যদিও স্টাটারিং রোগটার পুরোপুরি ভাল হয় না, কিন্তু কিছু থেরাপী আছে যার মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়’।

এ বিষয়ে জার্মান ভিত্তিক ওয়েবসাইট dw.de ঘেটে দেখা গেলো সেখানে তাঁদের নিজস্ব প্রতিবেদক জনাব ‘মুনীর উদ্দিন আহমেদ’ বলেছেন -‘তোতলামি বা কথা বলার প্রতিবন্ধকতা এমন একটি শারীরিক ব্যাধি যার কারণে কিছু মানুষ একই শব্দকে বার বার বলে, অনেক সময় একটা শব্দকে টেনে অনেক লম্বা করে বলতে থাকে এবং অনিচ্ছাকৃত এই সমস্যার কারণে কথা বলার স্বাভাবিক গতি ব্যহত হয়৷

‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন' সম্প্রতি এই তোতলামির কারণ সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন ছেপেছে৷ জিনতত্ত্ববিদ এবং এই গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম রচয়িতা ডেনিস দ্রায়ানা তাঁদের অনুসন্ধানের সাফল্য সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন,‘‘তোতলামির কারণ অনুসন্ধানে হাজার বছর ধরে নানা অনুমান করেছে মানুষ৷ অবশেষে আমরা অন্ততপক্ষে এর কিছুটা হলেও জানতে পেরেছি”৷

যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্রবণ এবং অন্যান্য যোগাযোগ প্রতিবন্ধিত্ব বিষয়ক জাতীয় ইন্সটিটিউট' বা ‘এনআইডিসিডি'-এর বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা করেন৷ এই ইন্সটিটিউটে দ্রায়না এবং তাঁর সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং পাকিস্তানের প্রায় সাড়ে সাতশ মানুষের ওপর এই গবেষণা চালান৷ এজন্য বেছে নেওয়া হয় তোতলামি'র সমস্যা আছে এমন ১২৩ জন এবং এই সমস্যা নেই এমন ৯৬ জন পাকিস্তানিকে৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ৫৫০ জন ব্যক্তিকেও বাছাই করা হয় একইভাবে৷ যাদের প্রায় অর্ধেকেরই তোতলামি'র সমস্য রয়েছে৷

এই গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত কিছু পাকিস্তানিকে আগের এক কাছাকাছি গবেষণাতেও বেছে নেওয়া হয়েছিল৷ আগের ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছিলেন যে, তোতলামির সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের জিনে ‘জিএনপিটিএবি' নামে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷
নতুন গবেষণার ফলাফল বলছে ‘তোতলা' ব্যক্তিদের জিনে ‘জিএনপিটিএবি' নামক ‘মিউটেশন' তো আছেই বরং একইসঙ্গে এমন আরও দু'টি ‘মিউটেশন' আছে৷ এগুলো হল ‘জিএনপিটিজি' এবং ‘এনএজিপিএ'৷ কিন্তু ‘তোতলা' নন এমন ব্যক্তিদের এই তিনটির কোনো ‘জিন মিউটেশন'-ই নেই৷

মার্কিন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জেমস বেটি বলেন, ‘‘এই গবেষণাতেই প্রথমবারের মতো তোতলামি'র সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে সুনির্দিষ্ট করে কোনো জিন মিউটেশনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে৷ ফলে এখন তোতলামি'রি চিকিৎসার সুযোগ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেল৷''

‘স্টাটারিং ফাউন্ডেশন' এর প্রেসিডেন্ট জেন ফ্রাসের বলেছেন, এই গবেষণার ফলে অনেক অভিভাবকের কাঁধ থেকে একটা বোঝা নেমে গেল৷ যারা ভাবতেন যে, তাঁদের কোনো ভুলের কারণেই সন্তান তোতলামির সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে৷ ফ্রাসের বলেন, ‘‘গবেষণা থেকে এটা স্পষ্ট যে সমস্যাটা শরীরবৃত্তীয়৷

তবে, ওষুধের মাধ্যমে তোতলামির শারীরিক চিকিৎসার এখনও অনেক পথ বাকি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এখনও আগের মতোই থেরাপির মাধ্যমেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে৷ পাকিস্তানের লাহোরের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ‘হলিন্স কমিউনিকেশন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট' এবং ‘ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ'-ও‘ এনআইডিসিডি'র এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে৷

ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদক রোকেয়া হায়দার তাঁর একটা প্রতিবেদনে তোতালামি নিয়ে মেরীল্যাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ন্যান র্যাটনার মুক ও বধির সংক্রান্ত বিজ্ঞানের শিক্ষকের কথা তুলে ধরেন এভাবে, ‘অনেকেই ব্যাপারটাকে ভুল বোঝে এবং মনে করে যে, তোতলামি হচ্ছে আবেগ সামলানোর এক সমস্যা। ছেলেবেলায় কোন কিছুতে ভয় পাওয়ার কারণে হয়েছে, বা অতিরিক্ত উদ্বেগ উত্কণ্ঠা এর কারণ। আসলে কিন্তু তা নয়’।


সুত্রঃ  
ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা
সম্পাদনায়ঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সম্পাদক, জিরো টু ইনফিনিটি।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | free samples without surveys